দেশের প্রধান চা নিলাম কেন্দ্র চট্টগ্রাম। আন্তর্জাতিক এ নিলাম কেন্দ্রে টানা ১৪ সপ্তাহ ধরে চা সরবরাহ কমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তাই নিলামে কম চা পাঠাচ্ছেন বাগান মালিকরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ড ও ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যে দেখা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৮তম নিলামে চা সরবরাহ হয়েছিল ৭১ হাজার ২৯১ প্যাকেটে (প্রতি প্যাকেটে ৫০ কেজি) ৩৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪২০ কেজি। আগের বছরের একই নিলামে ৬৯ হাজার ৪৫১ প্যাকেটে ৩৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৫ কেজি চা সরবরাহ করা হয়েছিল। জুন থেকে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদন ভালো হওয়ার প্রভাব পড়েছিল নিলাম বাজারে। এরপর সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৪টি সাপ্তাহিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি নিলামেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম চা সরবরাহ হয়েছে।
আরো জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১তম নিলামে বাগানগুলো ৪৩ লাখ ৬১ হাজার ৫৫৯ কেজি চা সরবরাহ করেছিল। গতকাল অনুষ্ঠিত নিলামে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৩২ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৫ কেজি।
বাগানগুলো দেশের ৯০-৯৫ শতাংশ চা চট্টগ্রাম নিলাম কেন্দ্রে সরবরাহ করে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, টানা ১৪টি নিলামে চা সরবরাহ নিম্নমুখী হওয়ার নজির এবারই প্রথম। চা চাষের জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। চলতি বছর বর্ষায় নিয়মিত বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে বেশি। এ কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায় নিলাম ও খুচরা-পাইকারি বাজারে চায়ের সরবরাহ কম। ফলে সামনের দিনগুলোয় বাড়তে পারে পণ্যটির দাম।
দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছরের আবহাওয়া চা চাষের উপযোগী ছিল না। এটি পণ্যটির নিলাম বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। কয়েক মাস ধরে প্রতিটি নিলামেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম চা সরবরাহ করছে বাগানগুলো। তাই দামও কিছুটা বেশি।’
বাংলাদেশ গত বছর রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন করে। যদিও সে বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ টন। চলতি বছরের অক্টোবর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পণ্যটির উৎপাদন অনেক কমেছে। ১০ কোটি ৮০ লাখ কেজি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার কেজি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে ১৬৮টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন বাগান মালিকদের অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে।
বাংলাদেশের চা সংসদের সভাপতি কামরান তানভিরুর ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে চা উৎপাদন প্রকৃতিনির্ভর। এ বছর আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদনে পিছিয়ে পড়েছি আমরা। তবে গত কয়েক বছরের বাড়তি চা থাকায় দেশে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। কোনো বছর উৎপাদন কম হলেও অন্য বছরগুলোয় বাড়তি উৎপাদনের মাধ্যমে সে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের বাগানগুলো দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে চা বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়ছে। তবে চলতি বছর সরবরাহ কম থাকায় তা পুষিয়ে নিতে পারে।’